ঘুমের মধ্যে কথা বলার লক্ষণ এবং প্রতিকার, দেখে নিন।

ঘুমের মধ্যে কথা
ঘুমের মধ্যে কথা

ঘুমের মধ্যে কথা বলার লক্ষণ এবং প্রতিকার, দেখে নিন। ঘুমের মধ্যে পাশে বসে কেউ কথা বললে পাশের সঙ্গী নিশ্চয়ই অনেক মজা পেয়ে থাকে! কিন্তু যে ঘুমের মধ্যে কথা বলে তার অগোচরেই থেকে যায় কোন বিষয়ে সে কথা বলেছে। ঘুমের মধ্যে কথা বলা ও হেঁটে বেড়ানো এ ব্যাপারগুলো কিন্তু অনেকের মধ্যেই আছে। ঘুমের মধ্যে কথা বলা অনেক সময় খুব সহজ বিষয় হতে পারে।

আবার অনেক সময় হতে পারে মারাত্মক রোগের লক্ষণ। স্লীপ টকিং কি? কেন এমন হয় এবং এর প্রতিকারই বা কী?

সে সম্পর্কে জেনে নিন-

ঘুমের সময় অবচেতন অবস্থায় যখন মানুষ কথা বলে তখন সেটাকেই বলা হয় স্লিপ টকিং। এটা ঘুমের মধ্যে একটা অস্বাভাবিক ঘটনা। এটা সাধারণত পুরুষ এবং শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা দেয়। সাধারণত জীবনের অভিজ্ঞতা বা যেকোনো বিষয় বা দৈনন্দিন কাজকর্মের বিষয় নিয়েই মানুষ ঘুমের মধ্যে কথা বলে থাকে।

অনেক সময় ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে উঠে বা গুনগুন করে। প্রতি রাতে এটা একবারের বেশি হলে তা খুবই বিরল বিষয়। সাধারণত একবারের বেশি হয় না। আর এটা ৩০ সেকন্ডের বেশি থাকে না। আবার প্রতিদিন রাতেই যে হবে এমনো কোনো মানে নেই। মাঝে মাঝে হতে পারে। ২০০৪ সালের একটি নিবন্ধে দেখা গেছে যে, ১ থেকে ১০ বছর বয়সের শিশুরা সপ্তাহের কয়েকটি রাতই এমনভাবে নিজেদের সঙ্গে কথা বলে।

স্লীপ টকিং নিজে নিজেই হয়ে থাকে। আর এটা খুব বেশি মারাত্মক কিছু নয়। ঠিক মতো ঘুম না হলে এটা মারাত্মক হতে পারে। আবার স্বাস্থ্যগত দিক থেকে নানাভাবে এটা মারাত্মক হতে পারে। সাধারণত এটা খুব বেশি মারাত্মক নয়।

এটা স্ট্রেস থেকে বেশি হয়ে থাকে, জ্বর বা মানসিক কোন রোগ থেকে হয়, অ্যালকোহল সেবন বা দুঃস্বপ্ন থেকে হতে পারে, ওষুধের কারণেও এটা হতে পারে। এক কথায় বলা যেতে পারে যে, ডিপ্রেশন হলে এটা হতে পারে। ভেতরে ভেতরে কিছু চাপা থাকলে সেটা ঘুমের মধ্যে মুখ থেকে বের হয়ে আসে।

এ রোগের যদিও কোনো ওষুধ বা চিকিৎসা নেই। এটা তেমন কোনো সমস্যা নয়। তারপর আপনি চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেই পারেন। এছাড়াও বেশ কিছু কাজ রয়েছে যেগুলো করলে আপনি এ সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকতে পারবেন। ঘুম কম হলেই স্লীপ টকিং ব্যাপারটি হয়ে থাকে।

তাই এমন হলে পর্যাপ্ত বিশ্রামের দরকার বা ঘুমের দরকার। এটা নিয়মিত করতে পারলে এ ধরণের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। মানসিক চাপ স্লীপ টকিং বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। সপ্তাহে আপনি দু’দিন কথা বলতেন সেটা বেড়ে চারদিন হয়ে যেতে পারে।

এজন্য মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করতে হবে। ঘুমের আগে অ্যালকোহল সেবন করলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ জন্য স্লীপ টকিং বিষয়টি হতে পারে। তাই ঘুমের আগে কোনোভাবেই অ্যালকোহল খাওয়া যাবে না। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পেট ভরে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এটা করা যাবে না।

ঘুমাতে যাওয়ার চার ঘণ্টা আগে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে ঘুম ঠিক মতো হবে আর হজমও ভালো হবে। আর এ ধরণের সমস্যা অনেকটাই দূরে চলে যাবে। চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার এছাড়াও ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে। ঘুম ঠিক মতো না হলেই এ ধরণের সমস্যা দেখা দিবে। এরপরও যদি স্লীপ টকিং না কমে তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ

Share with your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *