পৃথিবীতে যত সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণীরা , দেখে নিন!

বিষাক্ত প্রাণীরা
বিষাক্ত প্রাণীরা

পৃথিবীতে যত সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণীরা , দেখে নিন! পৃথিবী জুড়ে রয়েছে নানা ধরনের বিষাক্ত প্রাণী। সাধারণত বিষাক্ত কোনো প্রাণীর কথা শুনলেই আমাদের মাথায় সর্বপ্রথম সাপ এর নামটি আসে। কিন্তু পৃথিবীতে রয়েছে নানা প্রাণনাশী বিষাক্ত প্রাণীরা । হয়তো অনেকেই এগুলো মানুষের ঘাতক হতে পারে বলে ভাবতেও পারবে না। তবে জেনে নিন এমনই কিছু বিষধর প্রাণী সম্পর্কে-

পাফার ফিশ

এরা পৃথিবীর অন্যতম মেরুদন্ডী বিষাক্ত প্রাণীরা । পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা নামে এটি পরিচিত যেমন- জাপানে ফুবো নামে, আবার কোরিয়াতে পরিচিত এসবুক নামে। তবে বাংলাদেশে আমরা সচরাচর পটকা মাছ নামে ডেকে থাকি। এর চামড়া এবং ভিতরের অংশ খুবই বিষাক্ত। এই মাছ যদি এর শত্রুর উপস্থিতি টের পায় তবে এটি নিজেকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে অনেকটা ফুটবলের আকার ধারণ করে।

এরপর এটি শরীর থেকে টেট্রাক্সাইড নামে রাসায়নিক বিষাক্ত পদার্থ নিঃসৃত করে। গবেষণায় পাওয়া গেছে, এই রাসায়নিক পদার্থটি সায়ানাইড এর থেকে এক হাজার গুণ বেশি বিষাক্ত। এই মাছের বিষে মানুষের খুব দ্রুত ও ভয়ংকর মৃত্যু ঘটতে পারে। এই বিষের কার্যকারিতা ও প্রাথমিক লক্ষণ হলো জিহ্বা অসাঢ় হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরানো, বমি হওয়া, মাংসপেশী অবশ, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি অনুভূত হয়।

এই বিষে কোনো মানুষ আক্রান্ত হলে মাত্র ২ ঘন্টার মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে এই বিষয়ে কোনো প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জাপানে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষ এই মাছের কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

পয়জন ডার্ট ফ্রগ

মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন জঙ্গলে বিশেষ করে আমাজনে এই ব্যাঙ এর দেখা মেলে। পৃথিবীর অন্যতম বিষাক্ত প্রাণীর মধ্যে রয়েছে মাত্র দুই ইঞ্চির এ ব্যাঙ। এদের বিষ এতটাই বিষাক্ত যে মাত্র ১ গ্রাম বিষ ১০ জন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ অথবা ১ হাজার ইঁদুর মারতে সক্ষম। মার্কিন রেড ইন্ডিয়ানরা এই ব্যাঙগুলোর বিষ শিকারের কাজে ব্যবহার করে। তারা ব্লো পাইপ বা ব্লো গানের ভিতর সুঁই ঢুকিয়ে শিকারের শরীরে নিক্ষেপ করে।

ইনল্যান্ড তাইপান সাপ

পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপের খেতাব এই প্রজাতিকেই দেয়া যায় কারণ এর একটি ছোবলে ১০০ জন মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং প্রায় দেড় লাখ ইদুর নিধন করা যায়। এর টক্সিনগুলো এতটাই বিষাক্ত যে মাত্র ৪০ মিনিটেই মানুষের জীবন লীলা সাঙ্গ হবে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে এই সাপটি খুবই লাজুক প্রকৃতির এবং সচরাচর উন্মুক্ত স্থানে দেখা মেলে না। তাই এই সাপের ছোবলে মানুষের মৃত্যু ঘটনার রেকর্ডও পাওয়া যায় না।

ব্রাজিলিয়ান স্পাইডার

২০০৭ সালের গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড এর রেকর্ড অনুযায়ী এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর মাকড়সা যা সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে এই ব্রাজিলিয়ান স্পাইডার। অন্যান্য মাকড়সা থেকে এই মাকড়সা অধিক বিষ ধারণ করে থাকে এবং মুহুর্তের মধ্যেই তার শত্রুদের শরীরে ঢুকিয়ে দিতে পারে।

তাদের আশ্চর্য স্বভাব ও বসবাসের স্থানের কারণে তারা সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর। সাধারণত দিনের বেলায় এরা জনবহুল এলাকায় মানুষের বাসগৃহে, কাপড়ের ভিতর, জুতার মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। এর কামরের সঙ্গে শুধুমাত্র তীব্রভাবে ব্যাথাই অনুভূত হয় না বরং সব ঠেলে দেয় মৃত্যুর দিকে।

স্টোন ফিস

কচ্ছপ গতিসম্পন্ন এ স্টোন ফিস হয়তো কোনো প্রতিযোগীতায় জিততে পারবে না তবে পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত মাছের খেতাব ঠিকই সে জিতে নেবে। এর বিষের বিষক্রিয়া এতটাই তীব্র যে আক্রান্ত ব্যক্তি তার আক্রান্ত স্থানকে কেটে ফেলতে চায়। এর সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হচ্ছে এরা পাথরের তলদেশে ঘাপটি মেরে বসে থাকে তার শিকারের জন্য।

যা দেখে হয়ত কেউ বুঝতে পারবে না যেখানে পৃথিবীর অন্যতম বিষাক্ত মাছটি বসে আছে। এই প্রাণীর সারা শরীর জুড়ে রয়েছে অসংখ্য বিষাক্ত কাঁটা যা এদেরকে শত্রুর অনিষ্টকারী প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। যদি কোনো মানুষ এই কাটা দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে তার হৃদপিণ্ড কার্যক্ষমতা লোপ পায় এবং সারা শরীর অসাঢ় হয়ে যায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং আস্তে আস্তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

ব্লু রিংন্ড অক্টোপাস

এই ব্লু রিংন্ড অক্টোপাস আকারে খুবই ছোট, সর্বোচ্চ একটি গল্ফ বলের আকারের হতে পারে। কিন্তু এর বিষকে মোটেও ছোট করে দেখবেন না। এটি যে পরিমাণ বিষ বহন করে তাতে ২৬ জন পূর্ণ বয়ষ্ক মানুষকে মেরে ফেলতে পারে। এবং সব থেকে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে এই বিষের কোন প্রতিষেধক এখনো বের হয়নি। এর কামড়ে হয়তো আপনার কোন জ্বালা যন্ত্রণা করবে না কিন্তু একটির নিউরোটক্সিন বিষ নিরব ঘাতকের মত আপনার মস্তিষ্ককে নিস্তেজ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে দিবে। জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার সাগরের এটা দেখতে পাওয়া যায়।

কিং কোবরা

কিং কোবরা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা বিষাক্ত সাপ যার দৈর্ঘ্য ৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সমগ্র বনাঞ্চল জুড়েই দেখা যায়। এদেরকে সর্ব খাদকও বলা হয়। মূলত এরা যেকোনো প্রকারের সাপ খেয়ে থাকে তাই এদেরকে সর্বখাদকও বলা হয়। ছোট আকৃতির মেছো সাপ ও ছোট সাইজের অজগর সাপ এরা খেয়ে থাকে।

এর নিউরোটক্সিন বিষ এতটাই শক্তিশালী যে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতিকেও মেরে ফেলতে পার। এর বিষ মানুষের মস্তিষ্ক যে অচল করে দেয় যার ফলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার মৃত্যু হয়। এর কামড়ে মানুষের মৃত্যুর হার ৭৫ শতাংশ। বাংলাদেশের সুন্দরবনে এই সাপ দেখতে পাওয়া যায়৷ প্রতি বছর এই সাপের কারণে পুরো পৃথিবী জুড়ে শত শত মানুষ মৃত্যুবরণ করে।

আরও পড়ুনঃ

Share with your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *