প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই খেলবেন সাকিব-তামিমরা!

cricket

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরের পর্দা নামবে ৮ ফেব্রুয়ারি। বিপিএলের পরই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড উড়াল দেবে। নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ দল ৩টি টেস্ট ও ৩টি ওয়ানডে খেলবে। ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১৩ ফেব্রুয়ারি। তার আগে ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ দল একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ড বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে। তবে সেই ম্যাচে খেলা নিয়ে শঙ্কা জেগেছে দলের তারকা খেলোয়াড়দের।

৮ তারিখ বিপিএল ফাইনাল ও ১০ তারিখ নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ। যারা নিউজিল্যান্ড সিরিজের ওয়ানডে দলে থাকবে তারা বিপিএল ফাইনাল খেললে তারা দলের সঙ্গে শুরুতেই নিউজিল্যান্ড যেতে পারবে না। বাংলাদেশ সময় যখন ৮ তারিখ রাতে বিপিএল ফাইনাল শেষ হবে তখন নিউজিল্যান্ডে সময় হবে ৯ তারিখ। বাংলাদেশ দলের বাকি সদস্যরা ৯ তারিখ সকালে নিউজিল্যান্ড রওনা দিলেও ১ দিনের মাঝে নিউজিল্যান্ড পৌঁছে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা অনেকটাই অসম্ভব। তাই ধারণা করা যায় বিপিএল ফাইনাল যারা খেলবে তারা নিউজিল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলতে পারবে না। ১০ তারিখ নিউজিল্যান্ড পৌঁছে ৩ দিনের প্রস্তুতি নিয়েই ১৩ তারিখ ১ম ওয়ানডে খেলতে হবে বিপিএল ফাইনাল খেলা সদস্যদের। অল্প সময়ের মাঝেই নিউজিল্যান্ডের ভিন্ন আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে খেলোয়াড়দের। সেই সঙ্গে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই মূল ম্যাচে মাঠে নামতে হবে।

যদি কুমিল্লা ও রাজশাহী ফাইনাল খেলে তাহলে সবচেয়ে বেশি নিয়মিত সদস্য ছাড়াই প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশকে। কুমিল্লায় আছে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে দলে থাকা ৪ খেলোয়াড় তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও আবু হায়দার রনি। অপরদিকে রাজশাহীতে আছে সৌম্য সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী মিরাজ। এই দুই দল যদি ফাইনাল খেলে তাহলে হয়তো ১৫ জনের স্কোয়াডের সম্ভাব্য ৭ জন ছাড়াই প্রস্তুতি ম্যাচে নামতে হবে বাংলাদেশ দলকে। যদি ঢাকা বা রংপুর ফাইনাল খেলে সেইক্ষেত্রে হয়তো সংখ্যাটা কিছুটা কম হবে।

এই ব্যাপারে কোচ স্টিভ রোডস সংবাদমাধ্যমকে বলেন- বিপিএল কোনভাবেই নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি না। তবে কিছু করার নেই। এটি একটি অসাধারণ আসর এবং এ ছাড়া কোনো সময়ও ছিলো না। ছেলেদের বিপিএল থেকে সোজা গিয়ে নতুন এক কন্ডিশনে খেলতে হবে। আশা করি জাতীয় দলে যারা আছে তারা এটা বুঝবে ও এটা মানিয়ে নেবে।।

বাংলাদেশ দল এর আগেও ২০১৬ – ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ড সফর করে। সেই সফর ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩–০ তে, ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২–০ তে ও ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩ – ০ তে হারে বাংলাদেশ দল। নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে, ইংল্যান্ডের মাটিতে ও আয়ারল্যান্ডে হারাতে পারলেও নিউজিল্যান্ডে কখনো হারাতে পারেনি। আসন্ন সিরিজে চ্যালেঞ্জ থাকবে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো তাদের মাটিতে কোনো ম্যাচে হারানোর। একেবারে নূন্যতম প্রস্তুতি নিয়ে দারুন ফর্মে থাকা নিউজিল্যান্ডকে তাদের ঘরের মাঠে হারাতে পারলে বিশ্বকাপের আগে দারুন আত্মবিশ্বাস পাবে টিম বাংলাদেশ। তবে যথেষ্ঠ প্রস্তুতি না পাওয়া কি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সেটা দেখার বিষয়।

Share with your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *