বাণিজ্য মেলায় আসবাবপত্র-ক্রোকারিজে আগ্রহ বেশি, জমে উঠেছে মেলা।

বাণিজ্য মেলা
বাণিজ্য মেলা

বাণিজ্য মেলায় আসবাবপত্র-ক্রোকারিজে আগ্রহ বেশি, জমে উঠেছে মেলা। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। বিশেষ করে ছুটির দিনে তো কথাই নেই। সকাল বা বিকেল- বেশিরভাগ সময়ই নিরাপত্তাকর্মীদের ভীড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। মেলার ১৮তম দিন শনিবারও ব্যতিক্রম নয়। এদিনে সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভীড় চোখে পড়ার মতো।

সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় শুক্রবারের মতো আজও সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল দেখা গেছে মেলা প্রাঙ্গণে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের এই চাপ আরো বাড়তে থাকে।

বিকেলের দিকে দেখা যায়, কয়েকটি লাইনে মূল প্রবেশ গেট দিয়ে দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করছেন। একই সঙ্গে প্রবেশের লাইন লম্বা হয়ে চলে গেছে অনেকদূর পর্যন্ত।

মেলা প্রাঙ্গণে উপচে থাকা দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন রকমের বাহারি আসবাবপত্র, ক্রোকারিজ আর খাদ্যপণ্য।

আজ দিনের শুরুতে বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোতে ভীড় কম থাকলেও, এখন সেই স্টলগুলোতেও ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে তাদের পণ্যে। তাই বিক্রি বেশ ভালো। আকর্ষণীয় সব অফারে কম দামে পণ্য পাওয়া যায়- এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে প্রতিবারের মতো এবারের বাণিজ্য মেলায়ও ভীড় জমিয়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় প্রদর্শনীতে থাকা বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যের মধ্যে আসবাবপত্রের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। আর তাদের এ চাহিদা কথা মাথায় রেখে আসবাবপত্র প্রস্তুতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে লোভনীয় সব অফার।

দেশের অন্যতম আসবাবপত্র বিপননকারী প্রতিষ্ঠান হাতিল। মেলা উপলক্ষ্যে তারা পণ্যভেদে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। সেই সঙ্গে নতুন ডিজাইনের পাশাপাশি ‘হাতিল উইযের’ মাধ্যমে ক্রেতাদের দেখিয়ে দেয়া হচ্ছে এর ইন্টেরিয়র লুক।

হাতিল এর স্টলে দায়িত্বরত টেরিটরি ইনচার্জ আমীর হামজা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমরা কোয়ালিটির (গুণগত মান) সঙ্গে কম্প্রোমাইজ (আপোস) করি না। ক্রেতাকে সবসময় নতুন কিছু দেয়ার চেষ্টা করি। পাশাপাশি কয়েকদিনে বিক্রি বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারই প্রথম কাস্টমাইজড ফার্নিচার নিয়ে এসেছে হাতিল।

আরেক আসবাবপত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আখতার ফার্নিচার। মেলা উপলক্ষ্যে তারাও পণ্যভেদে দিচ্ছে ৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

বিভিন্ন ডিজাইনের ফার্নিচারের উপর বিশেষ মূল্যছাড়ও দিচ্ছে দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানটি। কাঠ, মেটাল, বোর্ডের তৈরি ফার্নিচারের মধ্যে রয়েছে খাট, সোফাসেট, ডাইনিং টেবিল, রিডিং টেবিল, ওয়্যারড্রোব, আলমিরা, রকিং চেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের অফিস আসবাবপত্র।

প্রতিষ্ঠানটির তৈরিকৃত বিভিন্ন ফার্নিচারের দাম সর্বনিম্ন ২৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। আখতার ফার্নিচারের পণ্য কিনে র‌্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন তিন জন পাচ্ছেন আকষর্ণীয় গিফট বক্স।

দেশের জনপ্রিয় ফার্নিচার ব্র্যান্ড রিগ্যাল। মেলায় বিভিন্ন ডিজাইনের দেড় শতাধিক ফার্নিচার প্রদর্শন করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। ফার্নিচার ভেদে তারা ৫ থেকে ২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে।

প্রতিদিন র‌্যাফেল ড্রয়ের ব্যবস্থাও করছে রিগ্যাল। সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকার পণ্য কিনলে র‌্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে ক্রেতারা পেতে পারেন ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা তিন দিন ও দুই রাতের কাপল ট্যুর, গোল্ড রিং এবং ড্রেসিং টেবিল।

এদিকে, মেলায় প্রচুর মানুষের সমাগম হওয়ায় অন্যান্য খাদ্যপণ্যের মতো আইসক্রিমের বিক্রি বেড়েছে।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, আইসক্রিমের বিভিন্ন স্টলে উপচে পড়া ভীড়। বিক্রি হচ্ছে ইগলু, লাভেলো, বেলিসিমো ও পোলারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আইসক্রিম। এর পাশাপাশি বিভিন্ন টঙ দোকান নিয়ে বসেছেন বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সব মিলিয়ে মেলায় অংশ নেয়া আইসক্রিমের স্টল সংখ্যা একশ’র কম হবে না।

আইসক্রিম বিক্রেতারা জানান, শীতের মৌসুম চললেও দুই-তিনদিন ধরে কিছুটা গরম পড়ছে। তাই আইসক্রিম বিক্রিও বেড়েছে অনেক গুণ। তাছাড়া ভীড় বেশি হওয়ায় এখানে গরম একটু বেশিই বটে।

অন্যদিকে, আজ সকাল থেকেই বাণিজ্য মেলা সংলগ্ন সবগুলো সড়কে গাড়ির চাপ ছিল বেশি। এতে দুপুরের পর যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। মেলার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পশ্চিম ট্রাফিক বিভাগ।

মেলা প্রাঙ্গণে দায়িত্বরত ট্রাফিক কর্মকর্তারা জানান, সকাল ১০টা থেকে মেলা শুরু হলেও এক ঘণ্টা আগে থেকেই গাড়ির চাপ বেড়েছে। ঢাকাসহ এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, এমনকি ঢাকার বাইরের লোকজনও মেলায় অংশ নেয়ায় আজকে গাড়ি ও লোকজনের চাপ একটু বেশিই।

এদিন প্রচুর যানজটের কারণে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী চন্দ্রিমা উদ্যানের ফুটপাত থেকেই সারিবদ্ধভাবে দর্শনার্থীদের আসতে দেখা যায়। গণভবনের সামনেও একই দৃশ্য দেখা গেছে।

এবছর মেলায় প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরা ও স্টলের মোট সংখ্যা ৬০৫। এর মধ্যে প্যাভিলিয়ন ১১০টি, মিনি-প্যাভিলিয়ন ৮৩টি ও রেস্তোরাসহ অন্যান্য স্টল ৪১২টি। এবার বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের ২৫টি দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পর্যন্ত মেলা খোলা থাকে। এতে প্রবেশের জন্য প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এবার অনলাইনে মেলার টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবারের বাণিজ্য মেলা ৮ দিন পিছিয়ে গত ৯ জানুয়ারি শুরু হয়েছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এই মেলা শেষ হবে।

আরও পড়ুনঃ

Share with your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *