ব্রণ থেকে মুক্তি চান?

Avoid-Touching-The-Pimple
ছবি: সংগৃহীত

নিজের সৌন্দর্য আয়নাতে দেখতে কে না ভালোবাসে! আর সে মুখ যদি হয় ব্রনযুক্ত, তবে নিশ্চয়ই আত্মবিশ্বাসটা কমে যায়! ব্ৰণের সমস্যায় পড়েননি এমন মানুষ কমই আছেন।বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা ব্রণের উৎপাতে বেশি ভোগেন।ত্বকে ব্ৰণ ও ব্রণের দাগের ফলে শুধু সৌন্দর্যহানীই ঘটে না সেই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও কমে যায়। আসুন আজ জেনে নেই এই ব্রণ কী? কেন হয় এই ব্রণ ?

বংশগত প্রভাব একটি অন্যতম কারণ ব্রন হওয়ার জন্য।স্বাভাবিকভাবেই লোমের গোড়ায় একটি ব্যাকটেরিয়া থাকে যার নাম প্রোপাওনি ব্যাকটেরিয়াম একনি।যৌবন কালের শুরুতে অর্থাৎ বয়ঃসন্ধিকালে সিয়াস গ্রন্থি সেবাম নামে এক প্রকার তরল নিঃসৃত করে। এই সেবাম হচ্ছে এক প্রকার ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই তৈলাক্ত পদার্থটি ত্বক মসৃণ রাখে।কোনো কারণে এই সেবাম যদি নিঃসরিত হতে না পারে তাহলে শরীরের যে অংশে সেবাম জমে সে অংশ ফুলে উঠে যাকে আমরা ব্রন বলে জানি। ব্রনমুক্ত হওয়ার কোনো উপায় নেই তবে যদি কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলা যায় তবে অনেকটাই উপকৃত হওয়া যায়-

* দুপুরের উতপ্ত রোদে বের হওয়া যাবে না, রৌদ্র এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে সানস্ক্রিন, ছাতা, সানগ্লাস ব্যবহার করুন।তেলযুক্ত ক্রিম বা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না।

* ব্ৰণে হাত লাগাবেন না অর্থাৎ ব্ৰণ খুটবেন না।

* চুলে এমনভাবে তেল দেবেন না যাতে মুখটাও তেলতেলে হয়ে যায়।

* বিশেষজ্ঞ কোনো ডাক্তার বা চর্ম বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। রোগীর আক্রান্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হয়; তা হতে পারে মলম থেকে শুরু করে খাওয়ার জন্য নির্ধারিত আন্টিবায়োটিক অথবা রেটিনয়েড জাতীয় ওষুধ।

ব্রনের ঘরোয়া সমাধান

ব্রণ হওয়ার জন্য খাদ্যাভাস অনেকাংশে দায়ী। ভুল খাদ্যাভাস, অনিয়মিত আহার গ্রহণ, অনুপযোগী খাবার, অত্যাধিক শর্করা, অত্যাধিক চর্বিযুক্ত খাবার ইত্যাদির জন্য ব্ৰণ হতে পারে। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ।অত্যাধিক চা, কফি, অ্যালকোহল, পান, তামাক সেবন ইত্যাদিও এর কারণ। আবার বয়ঃসন্ধিক্ষণে রাত জেগে পড়াশোনা ও বসে থাকার ফলে বদহজম সৃষ্টি হওয়া, সাধারণ দুর্বলতা ও দুশ্চিন্তা থেকেও ব্রণ হতে পারে।দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পর্যন্ত পানি এবং তেল-বাল-মসলাবিহীন খাবার খাওয়া উচিত। চিনি ছাড়া লেবু পানি, তাজা ফলের রস, আপেল, নাশপাতি, আঙুর, আনারস খেতে পারলে ভালো হয়।কাঁচা সবজি, ডাল, কাঁচা বাদাম, যব ও লাল চাল খুবই উত্তম।অধিক শর্করা, অধিক মিষ্টি, অধিক চৰ্বি সবই পরিহার করা উচিত। কিছু কিছু খাবার ব্রণের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয় যেমনঃ তেলে ভাজা খাবার, কোমল পানীয়, সংরক্ষিত খাবার। কড়া চা ও কফি, গুরুপাক খাবার ইত্যাদি।

ভিটামিন এ, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন বি৬ ব্যবহারে ব্ৰণ দূর হয়। ব্ৰণ দূর করার জন্য আয়রন ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাদ্য নিয়মিত আমাদের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। সবুজ শাকসবজি ও দুগ্ধজাত খাবার, মাছ, কলিজা, গাজর, ব্রকলি খেতে হবে। চা গাছের নির্যাস থেকে এক ধরনের তেল তৈরি হয়। এই তেল ব্রণের জন্য এটিসেপটিক হিসেবে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রতিদিন রাতে ত্বক পরিষ্কার করে ব্রণের ওপর লাগিয়ে নিন।নিম এবং চিরতা ব্ৰণ ভালো করতে সাহায্য করে। ব্রণহীন ত্বক পেতে নিয়মিত নিম পাতা এবং চিরতার পেস্ট তৈরি করে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে।

Share with your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *