ভুল

ভুল


মেয়েটি রেললাইনের ওপরে উঠে দাঁড়িয়ে আছে। হুইসেল বাজিয়ে রেলগাড়ি ছুটে আসছে। রেলগাড়ি কাছাকাছি চলে এসেছে, সেদিকে মেয়েটার কোনো খেয়াল নেই! নাকি আত্মহত্যা করার জন্যই রেললাইনের ওপরে উঠেছে? আকাশ ছুটে গিয়ে মেয়েটার হাত ধরে টান দিয়ে রেললাইনের ওপর থেকে নামিয়ে আনে। মেয়েটা প্রচণ্ড রেগে গিয়ে আকাশের গালে একটা থাপ্পড় দেয়। গাল চেপে ধরে মুচকি হেসে আকাশ বলে, ‘আপনার ধন্যবাদ দেওয়ার স্টাইল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ধন্যবাদের অ্যাকশনে আমার গাল জ্বলছে।’ মেয়েটা রেগেমেগে বলল, ‘ওটা ধন্যবাদ নয়, থাপ্পড়। আমি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম।’

-ও আচ্ছা, রেললাইনে তো আত্মহত্যা করা হলো না। এর পর কী করবেন?
-বিষ খাব।
-আজকাল বিষেও ভেজাল। তারপর?
-গলায় দড়ি দিয়ে মরব।
-যদি দড়ি ছিঁড়ে বেঁচে যান?
-নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মরব।

আকাশ আবারও মুচকি হেসে বলল, ‘বাহ! মরার জন্য এত অপশন; আর বেঁচে থাকার জন্য একটাও নেই? এটাই আমাদের চরম ভুল। সাময়িক বিপদ, ব্যর্থতা, হতাশার চাপে যত সহজে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারি, ততটা সহজে ইতিবাচক চিন্তা করতে পারি না। আপনি আত্মহত্যা করবেন? করেন, কারও কিছু যায় আসে না। পৃথিবী হারাবে আপনাকে, আর আপনি হারাবেন পুরো পৃথিবীকে। ক্ষতি কার বেশি?’

মেয়েটা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে আকাশের কথা শুনছে। আকাশ আবার বলে, ‘যাদের বুদ্ধি আছে তাদের বেশি কথা বলার প্রয়োজন নাই। যদি আমার কথার মানে বুঝে থাকেন, তবে বাসায় ফিরে যান। আর না বুঝলে অপেক্ষা করেন, দ্বিতীয় রেলগাড়ি এখনই আসবে!’

মেয়েটি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। দ্বিতীয় রেলগাড়ি এসে চলেও গেল। আকাশ মেয়েটিকে প্রশ্ন করল, ‘কী ব্যাপার, আত্মহত্যা করবেন না?’

মেয়েটি মুচকি হেসে বলল, ‘না; আমার সিদ্ধান্ত ভুল।’

-আবহা, খামিস মুসাইদ, সৌদি আরব

Share with your Friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *